৩০ মে, ২০২৬, হাইলাকান্দিঃ হাইলাকান্দি জেলার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধান এবং সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন হাইলাকান্দির বিধায়ক ডঃ মিলন দাস। বৈঠকে জেলার রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, পৌরসভা এলাকার জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কাটলীছড়াকে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা এবং ধলছড়া এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনসহ একাধিক জনস্বার্থমূলক বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর সামনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন তিনি।
বিধায়ক জানান, মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, দিসপুরে শপথ গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার হাইলাকান্দি জেলাতে এসে প্রথমেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কাটাখাল, পলারপার, বাগমারা সহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন ডঃ মিলন দাস। পরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে হওয়া বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডঃ মিলন দাস জানান, হাইলাকান্দি বিধানসভা এলাকার বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে, ধলেশ্বর পয়েন্ট থেকে রামনাথপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়কটি। বর্ষাকালে হাইলাকান্দির রাস্তাগুলির অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, হাসপাতালমুখী রোগী, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং নিত্যযাত্রীরা প্রতিনিয়ত অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই বাস্তব পরিস্থিতি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে তিনি অবিলম্বে সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানান।
শুধু রাস্তার সমস্যাই নয়, জল নিষ্কাশনের অব্যবস্থাও হাইলাকান্দি ও লালা পৌরসভার বাসিন্দাদের কাছে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিধায়ক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই এই দুই শহরের একাধিক পাড়া ও মহল্লা হাঁটুসমান জলে ডুবে যায়। এই কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতির জন্য সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়, সম্পত্তির ক্ষতি হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আধুনিক ও সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান ডঃ দাস।
দ্রুত বিকাশমান কাটলীছড়া শহরকে পৌরসভার আওতায় আনার বিষয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডঃ মিলন দাসের মতে, পৌর প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত হলে কাটলীছড়ার সাধারণ মানুষ নিয়মতান্ত্রিক নাগরিক সুবিধা পাবেন। পানীয় জল সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও বিস্তৃতির কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলেও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
আইন-শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে বিধায়ক জানান, বিলাইপুর থানার অধীনস্থ ধলছড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশি নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হলে এলাকার মানুষ দ্রুত ও সহজে পুলিশি সহায়তা পাবেন এবং অপরাধ দমনেও কার্যকর ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে। এই দাবিটিও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান ডঃ দাস।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক ডঃ মিলন দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে প্রতিটি দাবি মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অচিরেই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হবে এবং হাইলাকান্দির সাধারণ মানুষ তার সুফল ভোগ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক হাইলাকান্দি গড়ে তুলতে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিধায়কের এই সক্রিয় উদ্যোগ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ইতিবাচক সাড়াকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দির সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত সমস্যাগুলির বাস্তবসম্মত সমাধান হবে এবং হাইলাকান্দি জেলা উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে, এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
——– অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ