Site icon nhnewz.in

দেশজুড়ে জ্বালানির দাম চার বছরের সর্বোচ্চে, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস

জাতীয় ডেস্ক, ৩১ মেঃ

আজ ৩১ মে, দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন না হলেও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ এতটুকুও কমেনি। গত ২৫ মে তেল সংস্থাগুলি হঠাৎ করেই প্রতি লিটারে প্রায় আড়াই টাকারও বেশি দাম বাড়িয়ে দেয়, যা ২০২২ সালের পর দেশে জ্বালানির সবচেয়ে বড় একক মূল্যবৃদ্ধি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

এই বৃদ্ধির ধাক্কায় এখন দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম পৌঁছে গেছে গত চার বছরের সর্বোচ্চ স্তরে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং কলকাতার মতো দেশের প্রধান শহরগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এই মুহূর্তে অত্যন্ত উঁচু স্তরে রয়েছে। সকালে অফিসমুখী সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পণ্যবাহী গাড়ির চালক, ছোট ব্যবসায়ী এবং কৃষিকাজে নিযুক্ত মানুষজন, সবাই এই মূল্যবৃদ্ধির চাপে জর্জরিত। বিশেষত নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মাসিক বাজেটে জ্বালানির খরচ এখন একটি বড় বোঝা হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতির যুগলবন্দীতেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চলমান অনিশ্চয়তা এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির উৎপাদন নীতিও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে । যদিও দাম বাড়ার পরও দেশে জ্বালানির চাহিদা কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং ক্রমাগত তা ঊর্ধ্বমুখী থাকছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক সংকেত হলেও সাধারণ মানুষের পকেটে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে নিঃসন্দেহে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে দাবি উঠছে আবগারি শুল্ক কমানোর।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলছে, আমজনতার স্বার্থে অবিলম্বে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তবে সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা করেনি।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, আগামী দিনে কি জ্বালানির দামে সাধারণ মানুষ সামান্যতম স্বস্তি পাবেন, নাকি পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে? আপাতত উত্তর অজানা, আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন গুজরান করছেন দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।

 

——– অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

Exit mobile version