ফুটবল খেলতে গিয়ে জলে ডুবে প্রাণ হারাল দুই ছাত্র।

আলগাপুর, ২৯ মে: আলগাপুর উন্নয়ন খান্ডের অন্তর্গত চিপরসাঙ্গন অঞ্চলে ঈদের ছুটির দিনে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুটবল খেলতে গিয়ে মাঠের পাশের একটি অবৈধ ভাবে খনন করা গভীর জলপূর্ণ গর্তে ডুবে প্রাণ হারাল দুই স্কুলছাত্র, অভিনব সিনহা (১৪) এবং তার পিসতুতো ভাই অনুপম সিনহা (১৬)। ছুটির আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হলো অসহ্য বেদনায়।

চিপরসাঙ্গন প্রথম খন্ডের বাসিন্দা অভিনব সিনহা জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিল। তার বাড়ির পাশের খোলা জায়গায় স্থানীয় ছেলেরা অস্থায়ী ফুটবল মাঠ বানিয়ে নিয়মিত খেলাধুলা করত। সেদিন বিকেল চারটায় অভিনব ফুটবল খেলার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়।

অন্যদিকে, পাঁচগ্রাম কেমব্রিজ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র অনুপম সিনহা স্কুলের ছুটিতে পাঁচগ্রাম থেকে চিপরসাঙ্গনে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। অনুপমের স্থায়ী বাড়ি কাছার জেলার শিলচরে এবং তার পিতার নাম অসীম সিনহা। দুই ভাই মিলে সেদিন মাঠে ফুটবল খেলতে নেমেছিল আনন্দের আশায়।

খেলার একপর্যায়ে ফুটবলটি মাঠের পাশে থাকা গভীর জলপূর্ণ গর্তে গিয়ে পড়ে। বল তুলে আনতে গর্তে নেমে পড়ে অভিনব। কিন্তু গর্তটি ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সাঁতার না জানায় সে দ্রুত জলে ডুবতে শুরু করে। ভাইকে ডুবতে দেখে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে যায় অনুপম, কিন্তু তারও সাঁতার জানা ছিল না।

এর মধ্যে অভিনবের জেঠতুতো ভাই আয়ুষ সিংহও তাদের সাহায্য করতে সেই অভিশপ্ত জলাশয়ে নেমে পড়ে এবং ডুবতে শুরু করে। সেই চরম মুহূর্তে নিজে ডুবতে ডুবতেও অনুপম আয়ুষকে উপরের দিকে ঠেলে দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে দেয়, কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেনি নিজের এবং অভিনবের।

স্থানীয় জনগণ ও পুলিশের সহযোগিতায় দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর দুজনকে জলাশয় থেকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ দুই ছাত্রের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাইলাকান্দি সিভিল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

অভিনবের পিতা সুকান্ত সিনহা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মাঠে যারা ফুটবল খেলতে এসেছিল তাদের কেউই সাঁতার জানত না। তিনি বলেন, আয়ুষসহ আরও অনেকে যে প্রাণে বেঁচে গেছে সেজন্য তিনি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে নিজের সন্তানকে এভাবে হারানোর যন্ত্রণা কোনো কথায় প্রকাশ করার নয়।

ময়নাতদন্তের পর , শুক্রবারে অভিনব এবং অনুপমের নিথর দেহ গ্রামে আনা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। বাড়িতে শুরু হয় কান্নার রোল। শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমান গ্রামের মানুষজন।

মাত্র ১৪ এবং ১৬ বছরের দুই প্রাণবন্ত কিশোরের এই করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। অবশেষে বৈদিক রীতিনীতি মেনে দুই ভাইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চিপরসাঙ্গন গ্রামেই সম্পন্ন হয়।

 

একটি অবৈধ খননের কারণে প্রাণ হারাতে হলো দুই ছাত্রকে। এই মর্মান্তিক প্রাণহানির জন্য দায়ী কে? এই ঘটনার দায়িত্বই বা কে নেবে?

খননের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম-কানুন রয়েছে। এ ধরনের খননের জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসারের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রশ্ন উঠছে, এই খোলা মাঠের মধ্যে খননের জন্য কি সরকারি বৈধ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল?

 

বিভিন্ন হাওর বা খোলা জায়গায় এভাবে শত শত অবৈধ খনন রয়েছে। এই ঘটনার পর কি মাটি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আলগাপুর রাজস্ব চক্র অফিস প্রতি বছর মাটি খনন থেকে কত রাজস্ব আদায় করে?

 

এখন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে—এই খননটি কবে করা হয়েছিল? কারা এই খননের সঙ্গে জড়িত? এবং কীভাবে এত বড় জলপূর্ণ গর্ত সৃষ্টি হলো? এই সমস্ত বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা । 

1 thought on “ফুটবল খেলতে গিয়ে জলে ডুবে প্রাণ হারাল দুই ছাত্র।”

  1. Pingback: Assam CM assures action on Hailakandi development.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *